আওরঙ্গাবাদ ট্রাভেল গাইড

আওরঙ্গাবাদ ট্রাভেল গাইড

মুর্তজা নিজাম শাহ দ্বিতীয় এর মূখ্যমন্ত্রী মালিক আম্বার ১৬১০ সালে খড়কি নামক এক গ্রামে আওরঙ্গাবাদ শহর প্রতিষ্ঠা করেন। ১৬২৬ খৃস্টাব্দে মালিক আম্বারের পুত্র ফতেহ খান সিংহাসনে বসেন এবং আওরঙ্গাবাদের নাম দেন ফতেহপুর। আওরঙ্গজেব যখন দাক্ষিনাত্যের শাসনকর্তা নিযুক্ত হন তখন তিনি এই শহরকে তার রাজধানী করেন এবং নামকরণ করেন আওরঙ্গাবাদ। এই শহর বিভিন্ন রাজবংশের অধীনে ছিল এবং দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন নগরীগুলির একটি।

আওরঙ্গাবাদ গুহাসমূহ

আওরঙ্গাবাদ গুহা শহরের ঠিক উপকন্ঠেই। দ্বিতীয় ও ষষ্ঠ শতকে এই গুহাগুলি তৈরী হয় এখন শুধুমাত্র ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। বিহার আকারে সর্বমোট বারটি গুহা রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো তৃতীয় ও স্তমটি যার প্রথমটিতে বারটি সুন্দর বাকানো স্তম্ভ রয়েছে যাতে জাটকা উপকথার ক্রীড়া ভাস্কর্য রয়েছে অন্যটিতে রয়েছে পরিত্রাণের জন্য প্রার্থনারত বুদ্ধ। এই গুহাগুলি দেখতে চমতকার এবং এগুলির গঠনের কারণে জায়গাটি আকর্ষণীয় ভ্রমণস্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

বিবি কা মাকবারা

তাজমহলের রেপ্লিকার উপর নির্মিত এই স্মারকস্তম্ভটি ১৬৭৯ সালে আওরঙ্গজেবের পুত্র তার মা রাবিয়া দুররানীর স্মৃতির সম্মানে নির্মান করেন। এটি মুঘল স্থাপত্য সৌন্দর্যের আরেকটি উদাহরণ।

পান চাক্কি

১৬৯৫ সালে মালিক আম্বার নির্মিত সতের শতকের এই পানিকল সত্যিকারের দেশীয় আবিষ্কার। এই কল তীর্থযাত্রীদের শস্যদানা গুঁড়া করার কাজে ব্যবহৃত হতো এবং এমনভাবে এটি তৈরী যাতে পাহাড় থেকে প্রবাহিত পানিদ্বারা এতে শক্তি উতপন্ন হতো।

দৌলতাবাদের আশপাশে ভ্রমণের স্থানসমূহ

দ্বাদশ শতকে যাদব রাজবংশের রাজা ভিল্লামা নির্মিত এই পাহাড়ী দূর্গ একটি চমতকার ভ্রমণীয় স্থান। অতীতে এটি দেবগিরি নামে পরিচিত ছিল পরে দিল্লীর সুলতান মুহাম্মাদ বিন তুঘলক দৌলতাবাদ নামকরণ করেন। আওরঙ্গাবাদ থেকে তের কি.মি. দুরে অবস্থিত স্মরণীয় এই দুর্গটি পিরামিডাকৃতির একটি পাহাড়ের উপর তৈরী এবং এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তুঘলক একে তার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন। এখানকার আরেকটি জনপ্রিয় চিহ্ন হলো এখানে ব্রাহ্মণ শাসক নির্মিত ৩০ মিটার উচু চাঁদ মিনার রয়েছে।

খুলদাবাদের আশপাশে ভ্রমণীয় স্থানসমূহ

দৌলতাবাদ শহরের কয়েক কি.মি. দুরে অবস্থিত আশির্বাদপ্রাপ্ত খুলদাবাদ জায়গাটিতে সর্বশেষ মহান মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি রয়েছে। সম্রাট নিজেই মৃত্যুর পূর্বে খুলদাবাদ শহরের চারপাশে চমতকার দেয়াল নির্মাণ করেছিলেন নিরাপত্তা ও অন্যান্য কারণে। সেই সময়ে শহরটি একটা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।

ঘৃষ্ণেশ¦র মন্দির

মারাঠা রাজকন্যা রানী অহল্যাবাঈ হোলকার ঘৃষ্ণেশ¦র মন্দির নির্মাণ করেন। মন্দিরটি ইলোরা থেকে ৩০ কি.মি. দুরে অবস্থিত এবং ভগবান শিবের উদ্দেশ্যে নিবেদিত চমতকার এক মন্দির। এটা ভারতের বারটি জ্যোতির্লিঙ্গ এর একটি যেখানে ভগবান শিবের অর্চনা করা হয়। রাজকীয় এই মন্দির মধ্যযুগীয় স্থাপত্যকলার চমতকার এক নিদর্শন।

পিঠালকোরা

খৃস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের তেরটি গুহার পুণ্যস্থানটি আওরঙ্গাবাদ থেকে ৭৮ কি.মি. দুরে অবস্থিত। এই গুহাগুলিতে চৈত্য ও বিহারের সুন্দর ভাস্কর্য রয়েছে। এটা সত্যিই ভ্রমণের জন্য একটি সুন্দর স্থান।

পাইঠান

পাইঠান সাতবাহানার প্রচীন রাজধানী শহর ছিল এবং এটা আওরঙ্গাবাদ থেকে ৫৬ কি.মি. দুরে অবস্থিত। চমতকার জরির ঘের দেয়া পাইঠানী সিল্ক শাড়ীর জন্য জায়গাটি খুবই বিখ্যাত। বিখ্যাত মারাঠি কবি এবং সন্যাসী একনাথ এখানে বাস করতেন এবং তার সুন্দর রচনাগুলো এখানে রচিত হয়। জয়কোয়াড়ি ড্যাম এখানকার আরেকটি দর্শনীয় স্থান।

এখানে অসংখ্য ধরনের পাখি দেখতে পাওয়া যায় এবং এটা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য সুন্দর জায়গা। অক্টোবর ও মার্চ হলো পাখি দেখার অনুকুল সময়।

জ্ঞানেশ¦র উদ্যান

ভ্রমণকারীদের জন্য এটা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এটা মহারাষ্ট্রের বৃহত্তম বাগিচা যেটা দেশের অন্যান্য বড় বাগানগুলি যেমন মহিশুরের বৃন্দাবন, হরিয়ানার পিনজোর এবং কাশমিরের শালিমার বাগিচার অনুকরণে তৈরী। আনন্দ-ফুর্তির জন্যে এটা এক দারুন স্থান।

বানী বেগম বাগিচা

বানী বেগম বাগিচা শহরের ২৪ কি.মি. দুরে অবস্থিত। বিবিধ স্থাপত্যরীতি, অসংখ্য গম্বুজসজ্জিত, ঝরনা ও খাঁজ করা স্তম্ভ চক্ষুতৃপ্তিদায়ক। আওরঙ্গজেবের এক পুত্রের সঙ্গিনী বানী বেগমের সমাধি বাগিচার কেন্দ্রে অবস্থিত।

আওরঙ্গাবাদ যাওয়ার পরিবহন ব্যবস্থা

আওরঙ্গাবাদ বিমানবন্দর শহর থেকে মাত্র ১০ কি.মি. দুরে অবস্থিত এবং এটা দিল্লী, জয়পুর, উদয়পুর এবং মুম্বাই শহরকে সরাসরি যুক্ত করেছে। রেল যোগাযোগে আওরঙ্গাবাদ সরাসরি পুনে ও মুম্বাই এবং দেশের অন্যান্য অংশের সাথে যুক্ত। রাষ্ট্রীয় পরিবহন বাসগুলি মুম্বাই, পুনে, আহমদনগর, জলগাও, শিরদি, নাসিক এবং ধুলে থেকে আওরঙ্গাবাদ যায়। মহারাষ্ট্র ট্যুরিস্ট ডেভলপমেন্ট করপোরেশন বাস সার্ভিস পরিচালনা করেন এবং মুম্বাই থেকে আওরঙ্গাবাদ পর্যন্ত বিলাসবহুল কোচ সার্ভিস পরিচালনা করেন।

Read more:
দিল্লী ট্রাভেল গাইড

ভারতের রাজধানী দিল্লী ভারতে ভ্রমণীয় স্থানসমূহের মধ্যে অন্যতম প্রধান স্থান। ‘দিল্লী’ শব্দটি ধিল্লিকা শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ মধ্যযুগের প্রথম Read more

মহাবালিপুরাম ট্রাভেল গাইড

মহাবালিপুরাম তামিলনাড়ু রাজ্যে অবস্থিত এবং পূর্বের মাদ্রাজ বর্তমানের চেন্নাই থেকে ৬০ কি.মি. দুরত্বে এর অবস্থান। বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত এই জায়গায় Read more

আমার ভারতকে জানুন!

আওরঙ্গাবাদ ট্রাভেল গাইড মুর্তজা নিজাম শাহ দ্বিতীয় এর মূখ্যমন্ত্রী মালিক আম্বার ১৬১০ সালে খড়কি নামক এক গ্রামে আওরঙ্গাবাদ শহর প্রতিষ্ঠা Read more

বেঙ্গালোর ট্রাভেল গাইড

কেমপে গৌড়া কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালোর প্রতিষ্ঠা করেন। এটা একটি প্রধান মহানগরী এবং দেশের শিল্প ও ব্যাবসা-বানিজ্যের কেন্দ্র। ষোড়শ শতকে Read more

কলকাতা ভ্রমণ গাইড

কোলকাতা ভারতের সবচেয়ে বড় মহানগরী শহর যার লোকসংখ্যা দশ মিলিয়নের উপরে। ঠাসাঠাসিপূর্ণ ও জনবহুল শহরগুলির একটি হওয়াতে জায়গাটি নানা পেশা Read more

জয়পুর ট্রাভেল গাইড

পিঙ্ক সিটি’ নামে সুপরিচিত জয়পুর ভারতের রাজস্থান রাজ্যের রাজধানী। রাজস্থান ভারতের পর্যটন স্থানগুলির একটিতে যুক্ত হয়েছে ভারতীয় গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গলের তৃতীয় Read more