মহাবালিপুরাম ট্রাভেল গাইড

মহাবালিপুরাম ট্রাভেল গাইড

মহাবালিপুরাম তামিলনাড়ু রাজ্যে অবস্থিত এবং পূর্বের মাদ্রাজ বর্তমানের চেন্নাই থেকে ৬০ কি.মি. দুরত্বে এর অবস্থান। বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত এই জায়গায় সৈকত মন্দির থাকায় প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক এখানে পরিভ্রমণে আসেন।

মহাবালিপুরাম ট্রাভেল গাইড

সাধারণ ভাস্কর্যের বাইরে এখানে রয়েছে দেব-দেবীর চিত্রণ, আছে প্রাত্যহিক জীবনের চিত্র সম্বলিত ভাস্কর্য যা বিশেষভাবে একে আকর্ষণীয় করেছে।

মহাবালিপুরামের শিল্পকর্ম চার ভাগে বিভক্ত হয়েছেঃ

উন্বুক্ত উদ্গত ভাস্কর্য শিল্প
সুনির্মিত মন্দির সমূহ
মানব নির্মিত গুহা
রথ(চ্যারিয়ট)

মহাবালিপুরামের দর্শনীয় জায়গাগুলি

অর্জুনের প্রায়শ্চিত্ত
কথিত আছে, অর্জুন গঙ্গা নদীর তীরে অনুশোচনার জন্য আসেন এই আশায় যে, শিব তাঁর প্রিয় অস্ত্র মন্ত্রবল অথবা তীর তাঁকে দান করবেন। বিশাল পাথরের উপর খোদাইকৃত অর্জুনের অনুশোচনারত মুখ হিমালয় থেকে উতসারিত গঙ্গা নদীর পৌরাণিক কাহিনীতে পরিণত হয়েছে। পাথরের উপরিভাগে বিভিন্ন প্রাণীর অনুপুঙ্খ খোদাইকাজ যেন প্রাকৃতিক প্রদর্শন।

মান্দাপাম

প্রধান পাহাড়ের উপর মোট আটটি মান্দাপাম ছড়িয়ে আছে যাদের দুটি অসমাপ্ত।

কৃষ্ণ মান্দাপাম

মান্দাপাম কৃষ্ণ মন্দির পাহাড়কাটা মন্দিরগুলির মধ্যে একটি যেখানে খোদাইকৃত প্রভু কৃষ্ণকে তাঁর অনুসারীদের বৃষ্টির দেব ইন্দ্ররে রোষ থেকে বাঁচানোর জন্য গোবর্ধন পাহাড়কে তুলে ধরে প্রতিরোধ করতে দেখা যাচ্ছে।

রথ

মহাভারত মহাকাব্যের বীর পান্ডবদের নামানুসারে রথ নামকরণ হয়েছে। যদিও তারা ‘পঞ্চ রথ’ নামে পরিচিত কিন্ত্ত তারা সংখ্যায় আট।

সৈকত মন্দির

সাত শতকে রাজসিংহের শাসনামলে এসব সৈকত মন্দিরগুলি নির্মিত হয়। অতুলনীয় পল্লব শিল্পের এটা চুড়ান্ত প্রদর্শন। এর দুইটি গম্বুজে ভগবান বিষ্ণু ও শিবের স্মৃতিচিহ্ন থাকায় এই মন্দিরগুলি দেখতে অত্যন্ত জমকালো ও রোমান্টিক।

ইতিহাসের কালপ্রবাহে বাতাস ও সাগরের প্রভাবে এই শিল্পের সৌন্দর্য কিছুটা ম্লান হয়েছে। যেটুকু বাকী আছে তা এতটাই বিস্ময়কর যে বিশ¦ হেরিটেজ তালিকায় স্থান পেয়েছে। এখানকার আরও একটি মজাদার বিষয় হলো জানুয়ারীর ১৫ তারিখ থেকে ফেব্রুয়ারীর ১৫ তারিখ ব্যাপী নৃত্য উতসব। এই সময়ে সারা দেশের নৃত্য এখানে পরিবেশিত হয় তার মধ্যে কেরালার কথাকলি, অন্ধ্র প্রদেশের কুচিপুড়ি, সেইসাথে উপজাতীয় নৃত্য ও অন্যান্য অনেক নৃত্য।

মহাবালিপুরাম ভ্রমণের অনুকুল সময়

মহাবালিপুরাম ভ্রমণের সবচেয়ে অনুকুল সময় হচ্ছে শীতকাল, নভেম্বর ও ফেব্রুয়ারী মাসে।

কিভাবে মহাবালিপুরাম ভ্রমণে যাওয়া যায়

লন্ডন, ফ্রাঙ্কফুর্ট, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর থেকে মাদ্রাজে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটসমূহ পরিচালিত হয়ে থাকে। বাসে পন্ডিচেরী, কাঞ্চিপুরাম এবং মাদ্রাজ থেকে মহাবালিপুরাম যাওয়া যায় প্রতিদিন। ভারতের যেকোন প্রান্ত থেকে বিমান ও ট্রেনযোগে মাদ্রাজ যাওয়া যায়।

Read more:
বেঙ্গালোর ট্রাভেল গাইড

কেমপে গৌড়া কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালোর প্রতিষ্ঠা করেন। এটা একটি প্রধান মহানগরী এবং দেশের শিল্প ও ব্যাবসা-বানিজ্যের কেন্দ্র। ষোড়শ শতকে Read more

মুম্বাই ট্রাভেল গাইড

মুম্বাই এর বন্দর ভারতের মধ্যে সবচেয়ে ব্যস্ততম। মুম্বাই নামের উতপত্তি হয়েছে স্থানীয় দেবী মুম্বা দেবীর নামানুসারে, এর পূর্ব নাম ছিল Read more

দিল্লী ট্রাভেল গাইড

ভারতের রাজধানী দিল্লী ভারতে ভ্রমণীয় স্থানসমূহের মধ্যে অন্যতম প্রধান স্থান। ‘দিল্লী’ শব্দটি ধিল্লিকা শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ মধ্যযুগের প্রথম Read more

হাইদেরাবাদ ট্রাভেল গাইড

কুতুব শাহী শাসকরা হাইদেরাবাদ শহরের গোড়াপত্তন করেন। ১৫৮৯ সালে মুহাম্মদ কুতুব শাহ তাঁর রাজধানী গোলকুন্ডা থেকে নদী তীরবর্তী মুসীতে সরিয়ে Read more

আওরঙ্গাবাদ ট্রাভেল গাইড

মুর্তজা নিজাম শাহ দ্বিতীয় এর মূখ্যমন্ত্রী মালিক আম্বার ১৬১০ সালে খড়কি নামক এক গ্রামে আওরঙ্গাবাদ শহর প্রতিষ্ঠা করেন। ১৬২৬ খৃস্টাব্দে Read more

থিরুভানানথাপুরাম ট্রাভেল গাইড

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে অবস্থিত থিরুভানানথাপুরাম ভ্রমণের জন্য একটা মনোহর জায়গা। এটা দেশের পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুপরিকল্পিত শহরগুলির মধ্যে একটি। কেরালার সবটুকু Read more